শনিবার ১৩ জুন ২০২৬
Online Edition

সংগ্রামের রাজপথে দৈনিক সংগ্রাম

আবুল আসাদ

একটা বড় প্রশ্ন, সংবাদপত্র নিছক ব্যবসায়মুখী কোনো শিল্প, না সেবামূলক মিশনারি প্রতিষ্ঠান। প্রশ্নটা ইদানিংকালের। দেখা যাচ্ছে, অন্যান্য মুনাফামুখী শিল্পের মতো সংবাদপত্রকেও এক ধরনের স্বার্থশিকারীর শিল্প ভাবার প্রবণতা জোরদার হয়ে উঠেছে। এখানে এসেই সংবাদপত্রের উদ্দেশ্যের সততা ও লক্ষ্যের পবিত্রতা বিনষ্ট হচ্ছে। লক্ষ্যের চেয়ে উপলক্ষ্য আজ বড় হয়ে উঠেছে। উপলক্ষের কাছে পদদলিত হচ্ছে লক্ষ্যের পবিত্রতা। আমি মুনাফাকে মোটেই অপ্রয়োজনীয় বলছি না, বরং মুনাফা খুবই প্রয়োজনীয় বিষয়। লক্ষ্য অর্জনের জন্য পত্রিকার অবশ্যই বেঁচে থাকা চাই। আর বেঁচে থাকার জন্যই চাই প্রয়োজনীয় উপার্জন। কিন্তু আজ লক্ষ্যের সহায়ক বিষয়টা খোদ লক্ষ্যে পরিণত হওয়া থেকেই দেখা দিয়েছে বিপদ। শুধুই মুনাফামুখী হয়ে দাঁড়ালে এই সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের প্রতি জাতীয় সরকার তার দায়-দায়িত্ব এক নিমিষে ঝেড়ে ফেলতে পারেন। অন্যদিকে মালিকের পক্ষেও মুনাফার বিষয়ে সংবাদপত্র ও সংবাদপত্র-কর্মীদের প্রতি দায়-দায়িত্বের বিস্মৃত হওয়া সহজ হয়। এই পর্যায়ে এসে সংবাদপত্র জাতিকে পথ দেখায় না। বরং দেশ ও জাতির স্বার্থকে, নিজের সততা ও সুবিচারবোধকে নিজ স্বার্থে বিক্রি করে দিতে রাজি হয়ে যায়। আমি শুরুতেই বলেছি, আমাদের সংবাদপত্র শিল্পের অঙ্গনে এই স্বার্থ চিন্তার সরব-আমদানি ইদানিংকালের ব্যাপার। ইতিহাস সাক্ষী আমাদের সংবাদপত্র-ইতিহাসের গোটা পরিক্রমাই এই চিন্তার বিপরীত। সংবাদপত্র জগতে আমাদের পূর্বসূরীরা ঐতিহ্যের যে সম্ভার আমাদের জন্যে রেখে গেছেন, তার কাছে স্বার্থ-চিন্তার এই প্রসঙ্গ একেবারেই অনাত্মীয়। এই ঐতিহ্যের সন্ধানে একটু ফিরে তাকানো যেতে পারে।

আমাদের ওপর ইংরেজ শাসনের দু’যুগের মাথায় প্রথম সংবাদপত্র প্রকাশিত হয়। তখনকার ‘বেঙ্গল গেজেট’, ‘ইন্ডিয়া গেজেট’, ‘ক্যালকাটা গেজেট’, ‘হরকরা’ প্রভৃতি সাময়িকীর সবগুলোই ছিল ইংরেজিতে। নিঃসন্দেহে ব্যবসায়-বুদ্ধি নিয়ে পত্রিকাগুলো বের করা হয়নি। যা ঘটেছে তা প্রকাশ করে মানুষের উপকার সাধনই ছিল পত্রিকার লক্ষ্য। এই লক্ষ্যের পথে চলতে গিয়ে শাসকদের সাথে তাদের সংঘর্ষ বেধেছে অহরহ। ১৭৮২ সালের দিকে ওয়ারেন হেস্টিংস ‘বেঙ্গল গেজেট’-এর প্রকাশ নিষিদ্ধ করে দেন। ১৭৯৯ সালে লর্ড ওয়েলেস লী সংবাদপত্রের স্বাধীনভাবে লেখার ক্ষমতা একবারেই হরণ করেন। সেন্সরশিপ এমনই প্রবল ছিল যে, সংবাদপত্রের অনেক কলাম তারকা চিহ্নিত আকারে শূন্য রেখে বের হতো। বাংলা ভাষায় প্রথম পত্রিকা বের করে কোলকাতার শ্রীরামপুর ব্যাপ্টিস্ট মিশন। ১৮১৮ সালের এপ্রিলে ‘দিগদর্শন’ নামে একখানি মাসিক এবং মে মাসে ‘সমাচার দর্পণ’ নামে একখানা সাপ্তাহিক পত্রিকা তারা প্রকাশ করে। বাংলাভাষীদের দ্বারা পরিচালিত বাংলা ভাষার প্রথম সংবাদপত্রের নাম ‘বাঙ্গাল গেজেট’। ১৮১৮ সালের জুনে এর প্রকাশ ঘটে। ব্যাপ্টিস্ট মিশনারি সোসাইটি থেকে ১৮১৯ সালের ডিসেম্বরে বের হয় ‘গজপেল’ ম্যাগাজিন। খৃস্টানদের ‘সমাচার দর্পণ;-এর জবাব হিসেবে রাজা রামমোহন রায় ১৮২১ সালের সেপ্টেম্বরে বের করেন ‘ব্রাহ্মণ সেবধি’। এসব পত্রিকার সবগুলোরই লক্ষ্য ছিল জনহিতার্থে স্ব স্ব মতের প্রকাশ ঘটানো এবং বিভিন্ন তথ্য ও সংবাদের প্রকাশ ঘটিয়ে মানুষের উপকার করা। ১৮২১ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত ‘সম্বাদ কৌমুদী’ প্রথম সংখ্যায় তার নিবেদনে লিখে : ‘ধর্মনীতি ও রাষ্ট্রবিষয়ক আলোচনা, অভ্যন্তরীণ ঘটনাবলী, দেশ-বিদেশের সংবাদ ও জ্ঞাতব্য তথ্য সংবলিত প্রেরিত পত্রাবলী à¦ªà§à¦°à¦•à¦¾à¦¶Ñ à¦à¦• কথায় লোকহিত সাধনই এই সংবাদপত্র প্রচারের লক্ষ্য।’ কমবেশি এই একই লক্ষ্য নিয়ে দেশে একের পর এক পত্র-পত্রিকা প্রকাশিত হতে থাকে। ১৯০০ সাল নাগাদ দেশে ১০৫০টি’র মতো পত্র-পত্রিকা প্রকাশিত হয়। মুনাফা চিন্তার দিক থেকে এ পত্রিকাগুলোর একটিও সম্ভবত এমন ছিল না যার জন্য প্রকাশক, সম্পাদকরা সময় ও শ্রম ব্যয় করতে পারেন। প্রকৃতপক্ষে স্ব-স্বার্থের সেবা নয়, স্বদেশ ও স্বজাতির হিতৈষণার প্রবল আবেগ থেকেই পত্রিকাগুলো আত্মপ্রকাশ লাভ করে। ১৮৬৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ‘অমৃত বাজার পত্রিকার সম্পাদক শুরুতেই লিখেন, ‘আমাদিগের পত্রিকায় যদি মিথ্যা কথা লিখি তবে কাহারো ক্ষতি হইতে পারে না। যদি সত্য কথা লিখি তবে কর্তৃপক্ষীয়দের আমাদিগকে তাড়া দিয়া ক্ষান্ত করিবার কিছুই নাই। বলের দ্বারা সত্য লুকিয়ে রাখা বরং কাপড় দিয়া আগুন বাঁধার চেষ্টার সমান। আমরা প্রায়ই স্পষ্ট কথা বলি... যে কর্তৃপক্ষকে প্রার্থনা করা আমাদের ততো উদ্দেশ্য নয়। আমাদের দেশীয়রা কিরূপ অবস্থায় আছেন, সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে কিরূপ হীনাবস্থায় আছেন, তাহা তাহাদিগকে দেখানোই আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য। আমরা ফটোগ্রাফার মাত্র। সামাজিক ও রাজনৈতিক ফটোগ্রাফ লইয়া আমরা এদেশীয়দিগকে দেখাইয়া থাকি। যদি ফটোগ্রাফ তুলিতে এরূপ ছবি উঠে যে, কেহ অন্যের মুখের ভাত কাড়িয়া খাইতেছে, বলবান দুর্বলের গলা টিপিতেছে, অভদ্র অপমান করিতেছে, একজনের ন্যায় স্বত্ব অন্যকে দেয়া হইতেছে, বিচারক অবিচার করিতেছে, তবে আমাদের তাতে হাত কী?’ আমি পাঠকগণকে সাপ্তাহিক অমৃত বাজারের এই কথাগুলোর দিকে লক্ষ্য করতে অনুরোধ করি, এটা কি কোনো ব্যবসায়ীর কথা হতে পারে? কোনো স্বার্থ-শিকারীর পক্ষে কি এ ধরনের কথা বলা সম্ভব? সম্ভব নয়। কিন্তু আমাদের পত্রিকাগুলো অতীতে এভাবেই কথা বলেছে। ব্যতিক্রম কিছু নেই তা নয়। কিন্তু ব্যতিক্রমের ক্ষেত্রগুলোতে স্বার্থের চেয়ে রাজনৈতিক কারণকেই মুখ্য ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে।

এদেশে মুসলিম সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও এই একই ঐতিহ্য লক্ষ্যণীয়। সম্ভবত ‘জ্ঞানদীপিকা’ দিয়েই মুসলিম সাংবাদিকতার যাত্রা শুরু। জনৈক মৌলবী আলীর সম্পাদনায় এ পত্রিকার প্রকাশ ঘটে। ১৮৬৪ সালে পাই মৌলবী রজব আলীর সম্পাদনায় এবং মৌলবী নাসির উদ্দিনের পরিচালনায় ‘জগদুদ্দীপক’ নামের সাপ্তাহিক পত্রিকা। মীর মোশারফ হোসেনের কাছ থেকে আমরা পাই ১৮৭৪ সালে প্রকাশিত ‘আজিজুন নেহার’ এবং ১৮৯০ সালে পাক্ষিক ‘হিতকরী’ (মীর মোশারফ হোসেন লিখিত বিখ্যাত বই ও মহাকাব্যগুলো তার জীবদ্দশায় একটিও প্রকাশ পায়নি টাকার অভাবে, অথচ সেই মীর মোশারফ হোসেন জাতির প্রয়োজনে জাতির জন্য দুই পত্রিকা উপহার দিয়েছেন)। ১৮৭৪ সালেই পাক্ষিক ‘আহমদী’ এবং ১৮৮৭ সালে ‘সম্মিলনী’ নামে দুইটি পত্রিকার প্রকাশ ঘটে। এই সময়ের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পত্রিকা মুন্সী রেয়াজুদ্দিনের পরিচালনায় এবং শেখ আব্দুর রহীমের সম্পাদনায় সুধাকর দলের পক্ষে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ‘সুধাকর’। ১৮৯২ সালে শেখ আব্দুর রহীম মানিক ‘মিহির’ প্রকাশ করেন। পরে ‘সুধাকর’ ও ‘মিহির’ এক হয়ে যায়। মুসলমানদের সমস্যা তুলে ধরাই ছিল এ পত্রিকার লক্ষ্য। সুধাকর সম্পর্কে বাংলা সাহিত্যের একজন ইতিহাসকার মুহাম্মদ আব্দুল হাই, ঢা.বি. শিক্ষক, বলছেন, ‘এ পত্রিকার মাধ্যমেই বাংলা ভাষায় বাংগালী মুসলমানরা তাদের ধর্মের মহিমা তত্ত্ব, জাতীয় ঐতিহ্য ও গৌরব সম্বন্ধে কিছুটা সচেতন হয়েছিল। সেকালে বংকিম প্রমুখ মুসলিম বিরোধী লেখক মুসলমানদের বিরুদ্ধে যেসব লেখা লিখতেন, সুধাকরে তার প্রতিবাদ বের হতো।’ শেখ আব্দুর রহীম ১৮৯৭ সালে মাসিক ‘হাফেজ’ বের করেন। এই পত্রিকার উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ভোগ বিলাস সুখাভিলাসী নিদ্রিত বংগীয় মুসলমানদিগকে তাঁহাদের পূর্ব পুরুষদিগের অতীত গৌরব ও ধর্মভক্তি কাহিনী এবং পবিত্র ধর্ম পবিত্র রীতিনীতি শুনাইয়া জাগরিত করিবার জন্যে তোমারই (আল্লাহর) আশ্রয়ে ও অনুগ্রহে আজ বঙ্গের চতুর্দিকে ভ্রমণ করিতে বহির্গত হইল।’ এই লক্ষ্য নিয়েই বের হয় ১৮৯১ সালে মোহাম্মদ রেয়াজউদ্দীন আহমদের সম্পাদনায় ‘ইসলাম প্রচারক’, ১৯০০ সালে মীর্জা ইয়াকুব আলীর সম্পাদনায় নুর আল-ইমাম সমাজের মুখপত্র ‘নুর আল-ইমাম’ এবং এই একই বছরে ময়েজউদ্দীন আহমদের সম্পাদনায় প্রকাশ পায় মাসিক ‘ইসলাম প্রচারক’। এদের মধ্যে ‘ইসলাম প্রচারক’ ছিল খুবই প্রভাবশালী পত্রিকা। মুসলিম একাগ্র সেবাই ছিল এ পত্রিকার লক্ষ্য। প্রথম সংখ্যায় মুসলিম সমাজের অবস্থা সম্পর্কে যে বিলাপ-ধ্বনি এর পাতায় পাতায় প্রকাশ পায়, তার কিছুটা এই রকম, ‘আমাদের ধর্মের শত্রু আজকাল প্রধানত খৃস্টানগণ। ইহারা বৎসরে লাখে লাখে টাকা খরচ করিয়া স্ত্রী-পুরুষে নানা ভেক ধারণ করিয়া, নানা উপায়ে ধর্ম প্রচার করিতেছে, ইহাদের অধ্যবসায় অটল, ইহারা ধর্মপ্রচারের জন্যে জলের ন্যায় অর্থ বৃষ্টি করিয়া থাকে। আবার দুর্ভিক্ষাদি উপস্থিত হইলে সেই অঞ্চলে আড্ডা করিয়া গরিব লোকদিগকে প্রলোভন দ্বারা বশীভূত করে।... আমাদের ভবিষ্যৎ আশা-ভরসার স্থল বিদ্যালয়ের ছাত্রগণ।... একদিকে ইংরাজী শিক্ষার প্রবল আকর্ষণে দুর্বল হৃদয় বাঙালি বালকের অন্তকরণ ক্রমশ বিলাতি ভাবাপন্ন হইয়া পড়িতেছে। পক্ষান্তরে বাঙালি ভাষায় বিকৃত পাঠ্যপুস্তক সকল পাঠ করিয়া তাহারা একেবারেই ধর্ম-কর্ম জলাঞ্জলি দিতেছে।... সেই দীন-তারণ, পবিত্রাত্মা হযরত মুহাম্মদ (সা.)এর জীবনের ঘটনাবলী কয়টি বালক ও কয়টি যুবক অবগত? ওদিকে হিন্দুর তেত্রিশ কোটি দেবতার নাম অনেকের কণ্ঠস্থ।’ এসকেএম মুহাম্মদ রওশন আলীর সম্পাদনায় ১৮৯৮ সালে ‘কোহিনুর’ নামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ পায়। এ পত্রিকাও ছিল সম্পূর্ণ সেবামূলক।

বিশ শতকের শুরু থেকে ৪০ এর দশক পর্যন্ত মুসলমানদের দ্বারা যেসব পত্র-পত্রিকা প্রকাশ পায় তার সংখ্যা সবমিলে শতাধিক। এদের মধ্যে সৈয়দ এমদাদ আলীর ‘নবনুর’, মওলানা আকরম খাঁর মাসিক মোহাম্মদী (১৯০৩), শেখ আব্দুর রহীমের মোসলেম ভারত (১৯০২), মোহাম্মদ রেয়াজ উদ্দীনের সাপ্তাহিক ‘ছোলতান’ (১৯০৬), শেখ ফজলুল করিমের ‘বাসনা’ (১৯০৮), মওলানা আকরম খাঁর সাপ্তাহিক ‘মোহাম্মদী’ (১৯০৮), শেখ আব্দুর রহীমের ‘মুসলিম হিতৈষী’ (১৯১০), মওলানা আকরম খাঁ ও মওলানা মুনীরুজ্জামান ইসলামবাবাদীর ‘আল-ইসলাম’ (১৯১০), মুসলিম সাহিত্য সমাজের ‘শিখা’ (১৯২৭), মওলানা মুনীরুজ্জামান ইসলামাবাদীর সাপ্তাহিক ‘নবপর্যায়ের ছোলতান’ (১৯১৩), মহাম্মদ নাসির উদ্দীনের ‘সওগাত’ (১৯১৯), মোজাম্মেল হকের ‘মোসলেম ভারত’ (১৯২০), মওলানা আকরম খাঁর ‘দৈনিক সেবক’ (১৯২১), ডা. লুৎফর রহমানের ‘নারী শক্তি’ (১৯২২), মওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর ‘দৈনিক ছোলতান’ (১৯২৬), মওলানা আলী আহমদ ওলী ইসলামাবাদীর ‘দৈনিক আমির’ (১৯২৯) এবং মওলানা আকরম খাঁর ‘দৈনিক আজাদ’ (১৯৩৬) উল্লেখযোগ্য। এসব পত্রিকার সবগুলোই কোনো কোনো ক্ষেত্রে লক্ষ্যাভিসারী পথের কিছু বিভিন্নতা সত্ত্বেও মিশনারী উদ্দেশ্য নিয়েই সবগুলো আত্মপ্রকাশ করে। লক্ষ্যের ওপর থাকতে গিয়ে তাদেরকে নানারকম লোভ-প্রলোভনকে জয় করতে হয়েছে। ১৯৩৬ সালে দৈনিক আজাদের প্রিন্টিং প্রেস কেনার জন্য অনেক টাকা প্রয়োজন হয়েছিল। কতিপয় মাড়োয়ারী ব্যবসায়ী দৈনিক আজাদের প্রকাশককে সাহায্য করার জন্য প্রয়োজনীয় অংকের ডোনেশন নিয়ে এগিয়ে এসেছিল। মওলানা আকরম খাঁ সে ডোনেশেন গ্রহণ করেননি। তিনি বলেছিলেন, আজাদকে প্রকাশের আগেই পরাধীন করব না। মওলানা আকরম খাঁ নিজের বাড়ি বন্ধক দিয়ে আজাদের প্রেসের জন্য টাকা যোগাড় করেছিলেন। ব্যবসায় নয়, স্বজাতি সেবার মিশন ছিল বলেই তারা আদর্শের প্রশ্নে আপোস করেননি। স্বদেশ-স্বজাতির খেদমতই ছিল তাদের লক্ষ্য। বিশেষ করে শাসক খৃস্টান ও খৃস্টানদের অনুগ্রহপুষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুদের বিভিন্নমুখী নির্যাতন থেকে মুক্ত করা এবং অধঃপতিত অবস্থা থেকে মুসলিম জাতিকে উদ্ধার করার জন্যই পত্রিকাগুলো কাজ করেছে। উপরে উনবিংশ শতকের পত্রিকা ‘ইসলাম প্রচারক’-এ মুসলিম জাতির উন্নতি বিধানের জন্য যে আকুতি দেখি, ১৯১০ সালের পত্রিকা আল-ইসলামেও আমরা সেই মনোভাবই লক্ষ্য করি। ‘আল ইসলাম’-এর প্রথম সংখ্যায় ইসমাইল হোসেন সিরাজী বলেছিলেন, ‘জাতীয় ইতিহাস এবং মহাপুরুষদিগের জীবনী ব্যতীত মুসলমানদের মৃতদেহে শক্তি সঞ্চয়ের কোনো উপায় নেই।... বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সেবকগণ! সাবধান হও এবং সতর্ক হও। অনুকরণ করিতে যাইয়া একেবারে দিশেহারা হইয়া পড়িও না। ইসলামের পবিত্র নীতির বাইরে ভ্রমেও সাহিত্য সেবা করিও না।’ এই আবেগ-অনুভূতি নিয়ে পথ চলাই আমাদের সাহিত্য-সাংবাদিকতার মূলধারা। এই স্রোতধারায় অবগাহন করে মাসিক ‘মোহাম্মদী’, সাপ্তাহিক ‘ছোলতান’, সাপ্তাহিক ‘মোহাম্মদী’ দৈনিক ‘ছোলতান’, দৈনিক ‘আজাদ’, প্রভৃতি পত্রিকা জাতি জাগরণের পক্ষে কী কঠিন ও দুর্বহ দায়িত্ব পালন করেছে তার সাক্ষী ইতিহাস এবং আমরা সচেতন সকলেই। সেবামূলক মিশনারী দৃষ্টিকোণ না থাকলে এ গুরুদায়িত্ব এভাবে পালন করা সম্ভব হতো না। তাদের এই ত্যাগ স্বীকারই জাতিকে জাগিয়েছে এবং আমাদের দিয়েছে স্বতন্ত্র, স্বাধীন আবাসভূমি। তাদের আরুদ্ধ লক্ষ্যের বাকি কিছু এখনও আছে। আমরা স্বতন্ত্র, স্বাধীন দেশ পেয়েছি, আল্লাহর বান্দাদের সমান স্বার্থ রক্ষার এবং ইহজাগতিক ও পরজাগতিক কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য আদর্শ সংবিধান ও আদর্শ রাষ্ট্র আমরা এখনও পাইনি। এই পাওয়ার ক্ষেত্রে আজ অতীতের মতো সাহিত্য-সাংবাদিকতার বিরাট দায়িত্ব রয়েছে।

কিন্তু ১৯৪৭ সালে জাতীয় আবাসভূমি লাভের পর আমাদের দেশের পত্র-পত্রিকায় একটা ভিন্ন দৃশ্য নেমে আসে। নিছক একটা আবাসভূমি লাভের মধ্যে আমাদের সব চাওয়ার ইতি ঘটিয়ে আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গন যেমন জাতি গঠনে চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দেয়, আমাদের সংবাদপত্র জগতকেও এই মনোভাবে আচ্ছন্ন হতে দেখি। জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আদর্শের প্রতি যে নিষ্ঠা, যে আবেগ আমরা আগে দেখি, জাতি গঠনের কাজে তাদের যে আকুলতা আমরা পূর্বে লক্ষ্য কর, তাতে বিস্ময়করভাবে ভাটা নেমে আসে। কোথাও কোথাও বিচ্যুতি প্রকট হয়ে দাঁড়ায়। কোথাও এমনকি বিরোধিতাও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। এই অবস্থা এখনও চলছে। এর ফলে আজ জাতীয় মূল্যবোধের ক্ষেত্রে শুধু অবনতিই নামেনি, পত্র-পত্রিকা সম্পর্কে জাতীয় কনসেপ্টই পাল্টে যেতে বসেছে। এমন এক পরিস্থিতিতে এসে আজ সংবাদপত্রকে অর্থকরী শিল্প ভাবা হচ্ছে। ভাবা হচ্ছে একে মুনাফাখোরী এক ব্যবসায়-প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠান ব্যবসায় হিসেবে টাকাও দেয়, আবার প্রভাব-সৃষ্টিকারী শক্তির বলে সরকার ও অন্যদের কাছ থেকে স্বার্থও হাসিল করা হয়। এছাড়া কালো টাকার নিরাপদ আশ্রয় এবং ট্যাক্স ফাঁকি দেবার নিরাপদ মাধ্যমও হয়ে দাঁড়াচ্ছে সংবাদপত্র। এই কারণেই বড় বড় শিল্প হাউজ ব্যবসায়-ইউনিট হিসেবে সংবাদপত্রকে পাশে রাখার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। আমাদের সংবাদপত্র জগতে এই ব্যবসায়-বুদ্ধির কালো ছায়া ক্রমেই দীর্ঘতর হচ্ছে। সেই সাথে তাদের ব্যবসায়-বুদ্ধির উনোনে একদিকে জাতির আদর্শ, ঐতিহ্য, স্বার্থ, মূল্যবোধ- সবই পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে সাদা টাকার সীমিত সাধ্যের পত্রিকা বিপন্ন, বিপর্যস্ত হচ্ছে।

 

এই চলমান স্রোতে বিপরীতমুখী গতি নিয়ে সহযোগীর সারিতে দৈনিক স্যগ্রামের আবির্ভাব (দৈনিক আজাদ তখনও বেঁচে ছিল ‘হাড্ডি-সার’ অবস্থায়)। আশপাশের নিরীখে এর গতি বিপরীতমুখী ছিল বটে, কিন্তু সাংবাদিকতা ক্ষেত্রে জাতির যে ঐতিহ্য, সে ঐতিহ্যের পথ ধরেই এগিয়ে চলে দৈনিক সংগ্রাম। বলা যায়, দৈনিক সংগ্রাম ঐতিহ্যের ছেড়া সুতা জোড়া দিয়েছে, সেতুবন্ধ রচনা করেছে হারানো অতীতের সাথে বর্তমানের। জাতির অন্তরাত্মা বা মনন এবং à¦¸à¦‚à¦¬à¦¾à¦¦à¦ªà¦¤à§à¦°Ñ à¦ দুয়ের মধ্যে নতুন যোগসূত্র হয়ে দাঁড়ায় দৈনিক সংগ্রাম। ঐক্যের সম্মিলনই একটা পত্রিকাকে জাতীয় পত্রিকা করে তোলে এবং পত্রিকাটি জাতির আশা-আকাক্সক্ষা ও আদর্শের মূর্ত প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়। জাতির জনতা, সংবাদপত্র এবং সংবাদকর্মী- এ তিনের মিলন-তীর্থে দাঁড়িয়ে জাতির জন্যে কাজ করার মহান ব্রত নিয়েই দৈনিক সংগ্রাম তার যাত্রা শুরু করে।

 

দৈনিক সংগ্রামের সামনে কথা কেনাবেচার কোনো ব্যবসায়-বুদ্ধি নেই। তাই নীতি ও বিশ্বাসের ব্যাপারে সে আপোসহীন। দৈনিক সংগ্রাম বিশ্বাস করে, জেনে-বুঝে ইসলামে আসার পর জাতীয় আদর্শ ইসলামের অনুশাসন মানা না মানা, ইসলামের নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করা না করা কোনো স্বেচ্ছাধীন বিষয় থাকে না। দ্বিতীয়ত মানবকল্যাণ থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকা প্রকৃত এক মানসিক অসুস্থতা এবং দায়িত্বহীনতা। মানুষের স্রষ্টা আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এই অস্থায়ী দুনিয়ায় মানুষের ইহজগতের শান্তি এবং চিরস্থায়ী পরজগতে মুক্তির জন্য ইসলামকেই পথ হিসেবে নির্দিষ্ট করেছেন। ‘দৈনিক সংগ্রাম’ এ খোদায়ী নির্দেশনাকে মাথায় নেবার পর মানবসমাজে এর প্রচার, প্রসার এবং ইসলামের অনুসারী মানব সমষ্টির জন্য কাজ করাকে ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেছে। উনবিংশ শতকে এবং বিশ শতকের প্রথমার্ধে শেখ আব্দুর রহীম, মুহাম্মদ রেয়াজউদ্দীন, মওলানা মনিরুজ্জামান ইসললামাবাদী, মওলানা আকরম খাঁ প্রমুখের পত্রিকা অনেকাংশে (অনেকাংশে কারণ বৃটিশ শাসক ও হিন্দুদের বৈষম্য নিপীড়ন এবং মুসলমানদের অজ্ঞতা-অশিক্ষা দূরীকরণেও তাদের লড়াই করতে হয়েছে) এই দায়িত্ব পালন করতেই চেষ্টা করেছে ‘দৈনিক সংগ্রাম’। তাদের মিশনটাকেই আরও স্পষ্ট ও পূর্ণতর করে তোলার কাজে সচেষ্ট রয়েছে।

 

সময়ের দিক থেকে ইতিহাসের এক ক্রান্তিলগ্নে দৈনিক সংগ্রামের জন্ম। পারস্পরিক একতা ও বিশ্বাসের যে বাঁধন নিয়ে দ্বিজাতিতত্ত্বের ওপর ভিত্তিশীল দুটি মুসলিম আবাসভূমি এক রাষ্ট্র-কাঠামোর মধ্যে সম্মিলিত হয়েছিল, সেই বাঁধন তখন ধসে পড়ার মুখে। কালের নিয়মে এটা কোনো নতুন বিষয় ছিল না। ফ্রান্সের পীরেনিজ পর্বতমালা থেকে দুর্গম মধ্য আফ্রিকা এবং পশ্চিমে আটলান্টিক থেকে ইন্দোনেশিয়া ও চীনের কাশগড় পর্যন্ত বিস্তৃত সুবিশাল মুসলিম সাম্রাজ্যও বহু খণ্ডে, বহু নামে টুকরো টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। বেদনাদায়ক হলেও এটাই ইতিহাস। তাই পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় সম্মেলনের বিভাজন দৈনিক সংগ্রামের কাছে বড় বিষয় ছিল না, বড় বিষয় ছিল মুসলমানদের জাতীয় স্বার্থের প্রশ্ন। কারণ এ স্বার্থের বিদায় ঘটলে, এ স্বার্থ উপেক্ষিত হলে ভারতের আগ্রাসী বিবর থেকে বাংলাদেশের মুসলমানদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার আর কোনো রক্ষাকবচই অবশিষ্ট থাকবে না। তাই ইসলামী আদর্শের কথা, মুসলমানদের স্বাধিকার-স্বার্থের কথা এবং ভবিষ্যৎ বিপদাশংকার কথা দৈনিক সংগ্রাম উচ্চকণ্ঠে প্রচার করেছে। এর দ্বারা সে চেয়েছিল এ অঞ্চলের মুসলমান তথা তাদের আবাসভূমি বাংলাদেশ ভূখণ্ডের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের নিশ্চিত নিরাপত্তা। দৈনিক সংগ্রামের এ আদর্শিক দৃষ্টিভঙ্গির সাথে কেউ দ্বিমত পোষণ করতে পারেন, কিন্তু বাংলাদেশের কোটি কোটি মুসলিম জনতার স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব নিয়ে তার যে উদ্বেগ, যে আশঙ্কা উচ্চকিত হয়ে উঠেছিল, তার সাথে দ্বিমত পোষণের কোনো অবকাশ নেই।

 

দৈনিক সংগ্রাম তার আত্মপ্রকাশের শুভ প্রভাতে তার চলার পথের রূপরেখা দিতে গিয়ে বলেছিল : ‘দৈনিক সংগ্রাম’ আল্লাহ ছাড়া কাউকে পরোয়া করে না, তাঁর করুণা ছাড়া কোনো কিছুতে লোভ করে না।’ দৈনিক সংগ্রাম তার প্রতিশ্রুতি পালনের চেষ্টা করেছে। দৈনিক সংগ্রাম একটা আদর্শের আনুগত্য করে, কোনো অন্ধ আবেগ কিংবা কোনো খেয়াল-খুশির নয়। চলার এ পথ বড়ই দুর্গম। দৈনিক সংগ্রাম যাত্রা শুরুর দিনে আরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, ‘আমাদের সংগ্রাম আজ বৃটিশ-ব্রাহ্মণ্যবাদ প্রভাবিত শিক্ষা-সংস্কৃতির বিরুদ্ধে, হামানী রাজনীতির বিরুদ্ধে, কারুনী অর্থনীতির বিরুদ্ধে এবং আমাদের সংগ্রাম আজাজিলী অনাচার-ব্যভিচারের বিরুদ্ধে।’ দৈনিক সংগ্রামের এ ঘোষণা প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন নির্দেশিত এক চিরন্তনী সংগ্রামের ডাক। এ সংগ্রাম চলে আসছে প্রথম মানুষ, প্রথম নবী আদম (আ.)-এর আগমন থেকেই। আজও বনি আদম অধ্যুষিত এ দেশ, এই পৃথিবী শয়তানী, ফেরাউনী, কারুনী, শাদ্দাদী, হামানী অবিচার, অনাচার-অত্যাচার থেকে মুক্ত হয়নি। তাই এর বিরুদ্ধে সংগ্রামের ইতি নেই। দৈনিক সংগ্রাম এই নিরন্তর সংগ্রামের মিছিলে এক অটল সৈনিক। অটল বলেই তার নীতি ও বক্তব্যে কোনো ডিগবাজির স্পর্শ নেই। এদিক থেকে দৈনিক সংগ্রাম কালোত্তীর্ণ। আর তার এ কালোত্তীর্ণ আদর্শের সংগ্রাম চলবে সংগ্রাম ঐতিহ্যের রাজপথ ধরে, যতদিন না প্রতিষ্ঠিত হয় আল্লাহর এই সুন্দর পৃথিবীতে তার পছন্দনীয় শান্তির ও শোষণহীন সমাজ। আমাদের যাত্রা শুরুর ঘোষণার পুনরুচ্চারণ করে বলি, ‘আমাদের...সর্বাত্মক সংগ্রামে ¯à§à¦°à¦·à§à¦Ÿà¦¾à¦° প্রভুত্বের বজ্রাঘাতে নর-দাসত্বের শৃঙ্খল হোক ভগ্ন, নেমে আসুক ঐশী বিধানের ছত্রছায়া, খিলাফতে রাশেদার স্বর্ণোজ্জ্বল ইনসাফের শাসনে আবার জাহেলী দুনিয়া হোক উদ্ভাসিত।’

 

জানি না, এ আলোর দিন কত দূরে, কিন্তু সে দিন আসছে, আসবেই। এই লক্ষ্যে আল্লাহর বান্দাহদের সংগ্রাম চলছে, চলবেই। এ সংগ্রামের সারিতে দৈনিক সংগ্রাম তার ঐতিহ্যের এক উত্তরসূরী। দৈনিক সংগ্রাম চরম দারিদ্র্য মাথায় নিয়ে, কণ্টকিত জমিনে পা ফেলে ফেলে সামনে এগুচ্ছে। বিশেষ করে গত পনের বছর সব ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছে দৈনিক সংগ্রাম। সরকারি বিজ্ঞাপন বন্ধ করে, মিডিয়া লিস্ট বাতিল করার মাধ্যমে অন্যান্য বিজ্ঞাপন পাওয়ার পথ বন্ধ করে দিয়ে, কাগজের ইমপোর্ট-এর ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা প্রত্যাহার করে এবং এ ধরনের নানা প্রতিকুলতা সৃষ্টি করে দৈনিক সংগ্রামকে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু দৈনিক সংগ্রাম মরেনি। দৈনিক সংগ্রাম কর্তৃপক্ষ এবং সাংবাদিক-কর্মচারীরা সীমাহীন কষ্ট করে এ পত্রিকাকে বাঁচিয়ে রেখেছে। নিপীড়নের সে কাল-রাত গত হয়েছে। ছাত্ররা এবং তাদের সহযোগী জনতা আজ এনেছে দেশে নতুন দিন। নতুন দিনের কর্তৃপক্ষ কি আগের অবিচারের প্রতিকার করবেন? বেশি সার্কুলেশন, বেশি সরকারি বিজ্ঞাপন, এটা অবিচারমূলক। নীতি, দেশপ্রেম ও দায়িত্বশীলতা হওয়া উচিত সরকারি সহযোগিতার মানদ-। তাছাড়া উদ্দেশ্যমূলকভাবে যে ক্ষতি স্বৈরাচার করে গেছে, তার পূরণও ন্যায়বিচারের দাবি। দেশ ও জাতির স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং একে আরও নিরাপদ ও শক্তিশালী করার কাজ করছে দৈনিক সংগ্রাম। উনবিংশ শতক এবং বিশ শতকের প্রথমার্ধ্বের মুসলিম সাংবাদিকতা জাতিকে একটা আবাসভূমি দিয়েছে, কিন্তু জাতির আদর্শ, ঐতিহ্য ও কৃষ্টির নিরিখে স্বাধীন করতে পারেনি। ’৪৭ এবং ’à§­à§§ উত্তরকালে দেশের স্বার্থের প্রতি উপেক্ষা এবং জ্ঞান, চরিত্র ও সততার অধঃগতি এরই একটা বিষময় ফল। পূর্বসূরীদের যে কাজটা বাকি আছে, তা সম্পাদনের দায়িত্ব তাদের উত্তরসূরীদের। ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার হিসেবে সে দায়িত্বই আজ ‘দৈনিক সংগ্রাম’ পালন করার চেষ্টা করছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ